• April 19, 2026, 4:34 pm
শিরোনামঃ
আমাদের মনোজগতের এই অদ্ভুত বদল কেন? টাঙ্গাইলে উদ্বোধন হলো বৈশাখী মেলা টাঙ্গাইলে বিপুল পরিমাণ তামাকজাত দ্রব্য ধ্বংস করেছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ  আলমগীর হোসেন সিটিতে নানা আয়োজনে বর্ষবরণ বৈশাখকে স্বাগত জানিয়ে জাসদের মঙ্গল শোভাযাত্রা ও মঙ্গল মিলনী অনুষ্ঠান ডিম ও মুরগির ন্যায্য মূল্যের দাবিতে এবং খাদ্য ঔষধ ও ভ্যাকসিনের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন  আদালতের ১৪৪ ধারা ভেঙে সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখল! অষ্টগ্রামে রাতের আঁধারে দখলবাজদের তান্ডব এবার ফেরিতে ওঠার সময়  ট্রাক নদীতে, নিহত ১ ভৈরবে হাম রোগের লক্ষণ ও প্রতিরোধ বিষয়ক আলোচনা সভা ময়মনসিংহের ত্রিশালে আল-আমিন হত্যা মামলায় এক পরিবারের ৫ জনের যাবজ্জীবন 

আমাদের মনোজগতের এই অদ্ভুত বদল কেন?

পলাশ আহসান 10 জন দেখেছে
আপডেট : Saturday, April 18, 2026
পলাশ আহসান

আমার সম্পাদকীয়-১
আমাদের মনোজগতের এই অদ্ভুত বদল কেন?
ঘটনা মানিকগঞ্জের একটি গ্রামের। একটা ৮ বছর বয়সী কন্যা শিশুর কানের সোনা ছিনতাই করা নিয়ে ৩ জনের অস্বাভাবিক মৃ..ত্যু। ঠিক মৃ..ত্যু নয় খুব সহজ হ..ত্যা। হ..ত্যা ছাড়া মানুষ আর কিছু ভাবতে পারলো না। শুধু ওই গ্রামেই এরকম সহজ হ..ত্যা আমরা প্রথম দেখলাম এরকম নয়। প্রায়ই দেখছি । কী হলো মানুষের? অনেকেই বিচার শাস্তি এসব নিয়ে কথা বলছেন। কিন্তু আমি ভাবছি একদল মানুষ কেন হ…ত্যা ছাড়া কিছু ভাবতে পারছে না? সেই মানুষেরা দ্রুত একত্রও হয়ে যাচ্ছে। খুবই রহস্য লগছে আমার কাছে বিষয়টা।
মানিকগঞ্জের ঘটনাটিই ধরুন। আমরা এর আগে বহু ছি..ন..তাই দেখেছি। এখানেও দেখলাম। ১৫ / ১৬ বছরের একটা ছেলে। যাকে কেউ বখাটে আবার কেউ মাদকাশক্তও বলছে। বলুক। এ আমার কাছে নতুন কিছু নয়। মাদকের টাকা যোগাড় করতে গিয়ে এই বয়সী ছেলেদের স..হিং..স হতে আগেও দেখেছি। কিন্তু একজন শিশুর কানের সোনা ছিনতাই করছে এক কিশোর, বিষয়টি খানিকটা নতুনই বটে। শিশুটি হয়তো তাকে চিনে ফেলেছিল। ঠিক আছে ফেলুুক। কিন্তু নিজের পরিচয় লুকাতে এক শিশুকে হ..ত্যা করছে কিশোর ছিনতাইকারী! বিষয়টা তো আরও হতাশার..
ঘটনার একাংশ শেষ। আমাদের জন্যে আরও বিস্ময় বাকি। যখন জানাজানি হলো, শিশুকে সব শেষ কার সঙ্গে গিয়েছিল। তখন মুহূর্তে সবাই হামলে পড়লো ছেলেটার বাড়ি। ছেলেটাকে না পেয়ে পি..টি..য়ে হ..ত্যা করলো তার বাবা ও চাচাকে। বড় ভাইও গুরুতর জ..খ..ম হলো। অনেক প্রশ্ন এখানে আসতে পারে। সেসবে না যাই। শুধু বলি ওই হ..ত্যা..কারীদের মধ্যে এমন কেউ কী ছিলেন না, যিনি ভাবতে পারেন এভাবে আইন হাতে তুলে নেয়া ঠিক নয়। বিচার করা সবার কাজ নয়। কেউ হামলাকারীদের হ..ত্যা করা রুখতেও পারলো না। হয়তো হয়নি তবু ধরা যাক, ওই ছেলেটি শিশুটির কানের সোনা ছি..ন..তাই করেনি। করেছে অন্য কেউ। তখন এই হ..ত্যা..কারীরা নিজের কাছেই বা কী জবাব দেবেন? অবশ্য সেই “নিজের কাছে” বোধটা এদের আছে কী না, সেটা খোঁজাও এই লেখার একটা বড় উদ্দেশ্য।
মাস খানেক আগে আমার বাসার কাছেও কাছাকাছি একটা ঘটনা ঘটে। এক ফেরিওলার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ করেন এক কিশোরী। সেটা কতটা ঠিক না বেঠিক সেসব বিবেচনায় না এনে ওই ছেলেটিকে বেধড়ক মা..র..পিট শুরু করে। তাকে বাঁচাতে একটি গেটের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়ার পর সেই গেটটি ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছিল একদল উঠতি বয়সী। খানিকটা ঝুঁকি নিয়ে পুলিশে ফোন করা এবং উত্তেজিত ছেলেগুলোর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছিলাম একজন অধ্যাপকসহ আমরা কয়েকজন।
শেষমেষ আমরা ছেলেটিকে পুলিশের হেফাজতে দিতে পেরেছিলাম। কিন্তু চূড়ান্ত হাতাশা প্রকাশ করছিল ছেলেগুলো। খুবই ভয়া..বহ ছিল সেই ছেলেটিকে না মা..র..তে পারার প্রকাশ ভঙ্গি।
তাদের কয়েকজন উষ্কানিদাতার সঙ্গেও আমাদের হয়ে গেলো কয়েক রাউন্ড বচসা। তাদের মত এজাতীয় অপরাধী দের মে..রে ফেলা উচিত। আমরা যারা বাঁচাতে চাই। তাদের কারণে অপরাধ দমন হচ্ছে না। খুব পরিচিত কাছাকাছি সময়ের আরও কয়েকটি উদাহরণ হয়তো দেয়া যাবে। কিন্তু ইচ্ছে করেই দিলাম না। শুধু বলছি মানুষ এতটা নৃ..শং..স না হলেও পারে। আরেকটি কথা না বললেই নয়। সেটা হচ্ছে বেশিরভাগ মানুষ কিন্তু এভাবে হ..ত্যা..র পক্ষে নয়। কিন্তু তাদের সামনেই গুটিকয় লোক আইন নিজের হাতে নিচ্ছে। পৈ..শা..চিক উল্লাশে বিচারকের আসনে বসছে। কিন্তু দিন শেষে সবাই এই অসভ্যতা ভুলে, আরেকটি অসভ্যতার অপেক্ষা করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো নিউজ